Skip to main content

"ছেলে আমার ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড"

"ছেলে আমার ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড"
         আহ্ম্মেদ আলী রিপন

ছেলে এখন আমার ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড
ফেসবুকে আমায় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট
করেছে সে সেন্ড্।                                                             
গল্পটা এখানেই কিন্তু নয়কো এন্ড।

গল্পটা কেবল হলো শুরু
ছেলে যে আমার ভার্চুয়াল গুরু।
এসএমএস টোন্ হঠাৎ উঠলো বেজে
পড়ে দেখি ছেলে আমার
ভার্চুয়ালি দিচ্ছে তাড়া,
কেন আমি তার                                                     ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আকসেপট্ করছিনে।

ছেলে এখন আমার ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড
আমি হলাম তার মিউচ্যুয়াল ফ্রেন্ড,
গল্পটা এখানেই কিন্তু নয়কো এন্ড।

চোখের সামনে ঘোরাঘুরি সারাক্ষণ
দেখে যেন মনে হয়
ছেলে আমার অপরিচিত একজন!
একই ঘরে দু'জনের বাস
তবু কেন চিন্তা চেতনার
দূরদূরান্তর দূরতার ফারাক?

আমার গর্ভে জন্ম যার
তার সাথে কথার মাধ্যম
শুধু, হোয়াটসঅ্যাপ্ আর মেসি্নজার।
মুখে মুখে কথা হয় ততক্ষণ
বিছানায় ঘুম আসে না তার যতক্ষণ।

মায়ের হাতের রান্না তার
ভালো লাগে না যখন আর,
চুপিচুপি অনলাইনে
পিৎজার অর্ডার প্লেস্ করে
নিশ্চিন্তে চ্যাটিং-এ দেয় এ্যটেনশন।
সহসাই মেসি্নজার-এ হঠকারী নক্
ছেলে আমার লিখেছে হেথায়
হাই মাম্মি, হ্যাল্লো বাড্ডি
ক্ষুধা নাই, খাব না তাই
ডিনারে কিন্তু দিওনা ডাক।

ছেলে এখন আমার ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড
গল্পটা এখানেই কিন্তু নয়কো এন্ড।
ভিডিও গেমস্-এ যতটা সে এ্যডিকটেড্
মা কে মা ডাকতে বিন্দুমাত্র নয় ডেভো্টেড্।
দিন কাটে তার অনলাইনে  ভার্চুয়াল আড্ডায়
আমার কাটে ঘরে বসে বুক ভাঙা কান্নায়।
একলা ঘরে একলা আমি
আমার আমি শুধুই আমি।
নোনা জলে বুক ভিজে যায়
ভেসে যায় আমার স্বপ্নের নৌকায়
দূর থেকে তবু কান পেতে রই
ছেলের মুখে মধুর সুরে
মা ডাক শোনার প্রতীক্ষায়।

চেহারায় ফুটে উঠেছে ক্ষীণ ক্লেশ
ছেলেটি অবাক তাকিয়ে দেখলেও
হৃদয়ে তার স্পর্শ করে না
অনুতাপ আর অনুশোচনার এক বিন্দু লেশ।
বরং অস্ফুটস্বরে বিড়বিড় করে
শীলাবৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে
জমিয়ে রাখা একগুচ্ছ শ্লেষ !

ছেলে এখন আমার ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড
গল্পটা এখানেই কিন্তু নয়কো এন্ড।
অনলাইনে পড়ালেখা, অনলাইনে টাইম প্যাস্
সেখানে কেনাকাটার সাইট -এর নাই অভাব।
তাইতো এখন ছেলে আমার
মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে
করে না আর অভিমানের ভাব।
ঘরে বসে যা কিছু চায়
অনলাইন সার্ভিস এর হোম ভেলিভারি
চোখের পলকে পৌঁছে দিয়ে যায়।
ভার্চুয়াল জগতের তেলেসমাতী
ছেলেকে করেছে বিনাশ্রমের বশবর্তী।
তাইতো এখন ছেলে আমার
মায়ের গালে পাপ্পা দিয়ে
বায়না ধরে বলে না আর
নেক্সট্ জন্মদিনে দিতেই হবে
তার পছন্দের এ্যপল্ ট্যাব্।

ফোর জি নেটওয়ার্ক- এ নিউ জেনারেশন মূগ্ধ
সেটা দেখে মূর্খ ব্যাকডেটেড্ খ্যাত
আমরা সবাই নির্বাক নিঃস্তব্ধ।
চারদিকে ভার্চুয়াল জগতের জয়জয়কার
নির্মোহ মধুর সম্পর্কগুলোর অবস্থা তাই
হঠাৎ বিদ্যুতের শকে্ অন্ধকারে করছে হাহাকার।

মানুষ এখন আর মানুষ নাই
ভার্চুয়াল মানব এখন আমরা সবাই।
অনুভূতি আর ভালবাসার কদর তাই
ভার্চুয়ালী আছে বাস্তবে নাই,
ফানুস বানিয়ে উড়িয়ে দিয়ে
করছে সবাই বিজয় উৎসব।
কেউবা নিরব কেউবা সরব
দূরে দাঁড়িয়ে হাসছে শুধু
ইন্টারনেট নামক নিরাকার দানব।

ছেলে এখন আমার ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড
গল্পটা কিন্তু ভাই এখনও হলো না শেষ....!

Comments

Popular posts from this blog

"ভয়ংকর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন"

"ভয়ংকর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন"  আহ্ম্মেদ আলী রিপন                 "কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস" বর্তমানে পৃথিবীর সবথেকে ভয়ংকর এবং সবচেয়ে আলোচিত একটা দূরারোগ্য ব্যাধির নাম। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের ভয়ানক থাবায় প্রতিদিন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং শত শত মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও প্রতিদিন প্রায় গড়ে তিন হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং গড়ে প্রায় ত্রিশ জন মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসর পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী দেশগুলোর চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দিন রাত অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা ঔষধ আবিষ্কার করার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁরা আশাব্যন্জক কোন সুখবর বিশ্ববাসীকে জানাতে পারেন নি। যে রোগের কোনো চিকিৎসা আবিস্কার করতে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সেরা সেরা চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন তখন, বাংলাদেশের কিছু সচেতন শিক্ষিত মানুষ এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদাসীনতা দেখিয়ে য...

এক অসহায় জাতির প্রার্থণা

এক অসহায় জাতির প্রার্থণা আহ্ম্মেদ আলী রিপন বড় কঠিন দুঃসময়ের মুখোমুখি সমগ্র মানবজাতি। "কোভিড- ১৯" বা করোনা ভাইরাস সমগ্র পৃথিবীর চিরচেনা চিত্রটি পাল্টে দিয়েছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের আক্রমন মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে সমগ্র বিশ্ব। এই প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিষেধক আবিস্কার করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হননি। বিশ্ব অর্থনীতি বড় বিপর্যয়ের মুখে। সমগ্র বিশ্ব ইতিপূর্বে এমন ভয়ানক নীরব শত্রুর মুখোমুখি হয়েছিল কিনা আমার জানা নাই। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশসমূহ এই ভাইরাস মোকাবেলা করতে গিয়ে যেখানে নাস্তানাবুদ হচ্ছে, সেখানে আমাদের প্রিয় এই ক্ষুদ্র ও দরিদ্র বাংলাদেশের অসহায় মানুষেরা কি দুরাবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন তা পাঠক মাত্রই অনুমান করতে পারছেন। প্রতিদিন বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে শত শত মানুষ। মৃত্যুর কাতার প্রতিদিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে! অথচ এই মহাদূর্যোগের সময়েও কিছু প্রতিষ্ঠান ও মানুষ চিকিৎসার নামে অসহায় মানুষের পকেট কেটে বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করে চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী মানুষকে মহাবিপদের দিকে ঠেল...

একখন্ড রঙিন কাগজ

একখন্ড রঙিন কাগজ       আহ্ম্মেদ আলী রিপন জীবন মানে এক খন্ড রঙীন কাগজ। যে কাগজের গন্ধ পেতে মানুষ ছুটে চলে জলোচ্ছ্বাসের গতিতে। সেই গন্ধে কেউ বা আবার হয়                              বাকরুদ্ধ বিবেক শূন্য। সেই যাদুময় গন্ধের অভাবে প্রেমিক হারায় প্রেমিকার প্রতিশ্রুতি, স্বামী হারায় স্ত্রীর ভালবাসা, পুত্র হারায় পিতা- মাতার নিঃশর্ত আদর। মধুর সম্পর্কগূলো অচেনা লাগে, মূর্খদের লাগামহীন বক্তৃতায় হৃদপিন্ডের রক্ত শুকিয়ে পানি হয়। তারপর একদিন, পর্দার আড়ালে জানোয়ারদের উদোম নৃত্য দেখে বিনা নোটিশে অশ্রুহীন চোখে নক্ষত্রের পতন ঘটে। পৃথিবীর সবচেয়ে দামী সুগন্ধীর নেশায় উদয় অস্ত নিরন্তর ছুটে চলছে মানুষ, মানুষের জীবন আজ এক খন্ড রঙীন কাগজে বন্দি।