Skip to main content

"ভয়ংকর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন"


"ভয়ংকর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন" 

আহ্ম্মেদ আলী রিপন                


"কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস" বর্তমানে পৃথিবীর সবথেকে ভয়ংকর এবং সবচেয়ে আলোচিত একটা দূরারোগ্য ব্যাধির নাম। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের ভয়ানক থাবায় প্রতিদিন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং শত শত মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও প্রতিদিন প্রায় গড়ে তিন হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং গড়ে প্রায় ত্রিশ জন মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসর পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী দেশগুলোর চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দিন রাত অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা ঔষধ আবিষ্কার করার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁরা আশাব্যন্জক কোন সুখবর বিশ্ববাসীকে জানাতে পারেন নি। যে রোগের কোনো চিকিৎসা আবিস্কার করতে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সেরা সেরা চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন তখন, বাংলাদেশের কিছু সচেতন শিক্ষিত মানুষ এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদাসীনতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কাছে মানুষের জীবনের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান সম্পদ হলো তাদের প্রতিষ্ঠান। তাও আবার যেন তেন প্রতিষ্ঠান নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত কিছুদিন আগে তারা ২০/৫০ নম্বরের অনলাইন পরীক্ষা নিয়েছে। এরই মধ্যে কিছু সংখ্যক নামকরা বেসরকারি কে জি স্কুল, যেগুলো মূলত বাংলা ভার্সন, ইংরেজি ভার্সন এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল নামে খ্যাত, সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান মাসের ১৫ তারিখ থেকে ৩০/৫০ নম্বরের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্কুল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে তারা পরীক্ষার রুটিন দিয়ে দিয়েছে। সারা বিশ্ব যখন করোনা আতংকে আতংকিত, তখন কীভাবে তারা এই মুহূর্তে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্কুল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো, তা আমার এই ছোট্ট মেধায় ধরছে না। আমি জানি, তাদের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলবেন, সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এদেশের অধিকাংশ মানুষ যেখানে বোঝেন না স্বাস্থ্যবিধি কি এবং কিভাবে তা মেনে চলতে হবে, সেখানে এসব স্কুলের শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা দেবে ? এসব স্কুলের প্লে, নার্সারি, কে জি ওয়ান, টু, থ্রী, ফোর এবং তার উপরের ক্লাসের কচি, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা দেবে, এটি ভাববার বিষয়। তাছাড়া অনেকদিন পর ক্লাসের বন্ধুদের পেয়ে এই কচি-কাচা শিক্ষার্থীরা আবেগে আপ্লুত হবে, একে অপরের সাথে কোলাকুলি না করলেও হ্যান্ডশেক করে মনের আবেগ প্রকাশ করবে, দুষ্টুমি, খুনসুটি করবে, এসব কাজ থেকে তাদের বিরত রাখা সত্যিই খুব কঠিন কাজ। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য উল্লেখিত কারণগুলো কী যথেষ্ট নয় ? তাছাড়া যেখানে কিছুদিন আগে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তাহলে এই মুহূর্তে কী এমন ঘটনা ঘটলো যে, ৩০/৫০ নম্বরের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনলাইনে না নিয়ে স্কুলেই নিতে হবে? বাংলাদেশ থেকে কী করোনা ভাইরাস আসমানে উঠে গেছে ? নাকি সরকার ঘোষণা করেছেন আমাদের তথাকথিত বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ করোনা ভাইরাসের টিকা ও ঔষধ আবিষ্কার করে বাংলাদেশ থেকে করোনা ভাইরাসকে রুখে দিয়েছেন ? সুতরাং,করোনা ভাইরাস নিয়ে আমাদের আর কোনো ভয় নেই। আমি ভেবে আশ্চর্য না হয়ে পারিনা, এদেশের সাধারণ মানুষ পেটের দায়ে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কাজের সন্ধানে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে যাদের অধিকাংশই হলো অশিক্ষিত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কিন্তু যারা স্কুলে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা তো মানুষ গড়ার কারিগর এবং এই জাতির মেরুদন্ড। তাঁরা কীভাবে এই ভয়ংকর সিদ্ধান্ত টি গ্রহণ করলেন। প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ, আপনাদের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনারা সবাই এক সাথে কথা বলুন, প্রতিবাদ করুন উর্বর মস্তিষ্কের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের। আপনার সন্তান আপনার ভবিষ্যৎ। শুধু তাই নয়, আপনার সন্তানরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। ক্ষতি যদি হয় তাহবে আপনার। এই সিদ্ধান্তের ফলে যদি একটা শিশুও আক্রান্ত হয়, তার দায় কে নেবে? বাংলাদেশে জনকল্যাণের নামে এই উর্বর মস্তিষ্কের লোকজনরাই নানা ধরনের হঠকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের ফলে কল্যাণের চেয়ে যখন তা অকল্যাণ বয়ে আনে তখন তার দায় নেওয়ার জন্য কোন মহারথীকে আপনি খুঁজে পাবেন না। তাই বলছি, শিক্ষার নামে সহজ সরল অভিভাবকগনের সাথে যারা আপনার আদরের ছোট শিশুদের নিয়ে শিক্ষা বাণিজ্য করছে, তাদের লোভের জিবটাকে টেনে ধরুন। এই কোমলমতি শিশুরা যদি এক বছরও স্কুলে না যায় তাতে এই শিশুদের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং শিশুদের মেধা শক্তি এবং মেধার পরিপক্কতা বৃদ্ধি পাবে। করোনা ভাইরাস ক্ষতি করছে ঠিকই, পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামনে একটা বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। এই মহাদূর্যোগের সময়ে আপনারা,আর যদি পারেন বাসায় টিউটর রেখে আপনার সন্তানকে সিলেবাসের বাইরে বেসিক জিনিসগুলো শেখান। দেখবেন আপনার এবং হাউস টিউটরের প্রচেষ্টায় আপনার সন্তান শিক্ষার মূল বিষয়গুলো শিখে সে তার বেসিক ফাউন্ডেশন কতটা মজবুত করতে সক্ষম হয়েছে। চাপমুক্ত পরিবেশে সানন্দে শিক্ষা গ্রহণ করে আপনার সন্তানের কল্পনাশক্তি কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে তা নিজের চোখে দেখতে পাবেন। আর তার মধ্যে জাগিয়ে তোলা কল্পনাশক্তি দিয়ে সে পুষিয়ে নিবে বর্তমান সময়ের সাময়িক ক্ষতি এবং গড়ে তুলবে তার আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। শুভকামনা রইলো সকল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য এবং শুভেচ্ছা রইলো সকল অভিভাবকবৃন্দের জন্য।

Comments

Popular posts from this blog

এক অসহায় জাতির প্রার্থণা

এক অসহায় জাতির প্রার্থণা আহ্ম্মেদ আলী রিপন বড় কঠিন দুঃসময়ের মুখোমুখি সমগ্র মানবজাতি। "কোভিড- ১৯" বা করোনা ভাইরাস সমগ্র পৃথিবীর চিরচেনা চিত্রটি পাল্টে দিয়েছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের আক্রমন মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে সমগ্র বিশ্ব। এই প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিষেধক আবিস্কার করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হননি। বিশ্ব অর্থনীতি বড় বিপর্যয়ের মুখে। সমগ্র বিশ্ব ইতিপূর্বে এমন ভয়ানক নীরব শত্রুর মুখোমুখি হয়েছিল কিনা আমার জানা নাই। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশসমূহ এই ভাইরাস মোকাবেলা করতে গিয়ে যেখানে নাস্তানাবুদ হচ্ছে, সেখানে আমাদের প্রিয় এই ক্ষুদ্র ও দরিদ্র বাংলাদেশের অসহায় মানুষেরা কি দুরাবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন তা পাঠক মাত্রই অনুমান করতে পারছেন। প্রতিদিন বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে শত শত মানুষ। মৃত্যুর কাতার প্রতিদিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে! অথচ এই মহাদূর্যোগের সময়েও কিছু প্রতিষ্ঠান ও মানুষ চিকিৎসার নামে অসহায় মানুষের পকেট কেটে বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করে চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী মানুষকে মহাবিপদের দিকে ঠেল...

একখন্ড রঙিন কাগজ

একখন্ড রঙিন কাগজ       আহ্ম্মেদ আলী রিপন জীবন মানে এক খন্ড রঙীন কাগজ। যে কাগজের গন্ধ পেতে মানুষ ছুটে চলে জলোচ্ছ্বাসের গতিতে। সেই গন্ধে কেউ বা আবার হয়                              বাকরুদ্ধ বিবেক শূন্য। সেই যাদুময় গন্ধের অভাবে প্রেমিক হারায় প্রেমিকার প্রতিশ্রুতি, স্বামী হারায় স্ত্রীর ভালবাসা, পুত্র হারায় পিতা- মাতার নিঃশর্ত আদর। মধুর সম্পর্কগূলো অচেনা লাগে, মূর্খদের লাগামহীন বক্তৃতায় হৃদপিন্ডের রক্ত শুকিয়ে পানি হয়। তারপর একদিন, পর্দার আড়ালে জানোয়ারদের উদোম নৃত্য দেখে বিনা নোটিশে অশ্রুহীন চোখে নক্ষত্রের পতন ঘটে। পৃথিবীর সবচেয়ে দামী সুগন্ধীর নেশায় উদয় অস্ত নিরন্তর ছুটে চলছে মানুষ, মানুষের জীবন আজ এক খন্ড রঙীন কাগজে বন্দি।