এক অসহায় জাতির প্রার্থণা
আহ্ম্মেদ আলী রিপন
বড় কঠিন দুঃসময়ের মুখোমুখি সমগ্র মানবজাতি। "কোভিড- ১৯" বা করোনা ভাইরাস সমগ্র পৃথিবীর চিরচেনা চিত্রটি পাল্টে দিয়েছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের আক্রমন মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে সমগ্র বিশ্ব। এই প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিষেধক আবিস্কার করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হননি। বিশ্ব অর্থনীতি বড় বিপর্যয়ের মুখে। সমগ্র বিশ্ব ইতিপূর্বে এমন ভয়ানক নীরব শত্রুর মুখোমুখি হয়েছিল কিনা আমার জানা নাই।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশসমূহ এই ভাইরাস মোকাবেলা করতে গিয়ে যেখানে নাস্তানাবুদ হচ্ছে, সেখানে আমাদের প্রিয় এই ক্ষুদ্র ও দরিদ্র বাংলাদেশের অসহায় মানুষেরা কি দুরাবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন তা পাঠক মাত্রই অনুমান করতে পারছেন। প্রতিদিন বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে শত শত মানুষ। মৃত্যুর কাতার প্রতিদিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে! অথচ এই মহাদূর্যোগের সময়েও কিছু প্রতিষ্ঠান ও মানুষ চিকিৎসার নামে অসহায় মানুষের পকেট কেটে বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করে চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী মানুষকে মহাবিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে মানুষ স্বেচ্ছায় ঘরে বন্দিজীবন বেছে নিয়েছে। শিল্প ও কল- কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ প্রায় সব অফিস- আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। সব জায়গায় চলছে কর্মী ছাঁটাইয়ের মহোৎসব! ঘরে ঘরে চলছে নীরব দূর্ভিক্ষ। অসহায় অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজন। এই অসহায় মানুষদের জন্য কি কারোর কিছুই করার নাই? হ্যা এটাই সত্যি, এদের জন্য কারোর কিছুই করার নাই! করোনা ভাইরাস মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে প্রকৃতির কাছে মানুষ কতটা ক্ষুদ্র ও দূর্বল। এই মহাদূর্যোগ থেকে বাঁচতে এক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ খোলা নাই। এই নীরব শত্রু এবং অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর কাছে করি এবং বলি------
হে আল্লাহ্ , তুমি আমাদের এবং সমগ্র বিশ্বের অসংখ্য অসহায় মানুষদের করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা কর।
হে মহাপরাক্রমশালী , তোমার কাছে আমাদের প্রার্থনা- ধুয়ে দাও আমাদের পাপ, ভাসিয়ে নিয়ে যাও তথাকথিত মানবিক বোধের জঞ্জাল। মানুষের মাঝে জাগিয়ে দাও বেঁচে থাকার অন্যতম বোধ।
হে মহাক্ষমতাধর , তোমার কাছে আমাদের প্রার্থনা- আমাদের তুমি ঐক্যবদ্ধ করে দাও। বৈশাখী ঝড়ে অনৈক্যের জায়গাটিকে উৎখাত করে ঐক্যের জায়গাটি সমান করে দাও। জাতির জীবনে জমে যাওয়া অন্যায়, অপরাধ,লোভ, অহন্কার, দূর্নীতি সহ সব আবর্জনা দূর করতে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর জন্য তুমি শক্তি দাও।
হে আল্লাহ্ , করোনা ভাইরাস ধ্বংস করে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার পরিবেশ তুমি তৈরি করে দাও। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়, যেন মনুষ্যত্ব বিকাশের অনুশীলনের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়ে আমাদের আগামী প্রজন্ম যেন তোমার সৃষ্টির প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে তোমার পৃথিবীকে নতুন করে নির্মাণ করার জন্য প্রতিঙ্গাদীপ্ত হয়। আমাদের সন্তানদের নিজেদের হৃদয় খুলে শিক্ষার নির্যাসে আলোকিত মানুষ হবার শক্তি দাও।
হে আমাদের রব, তোমার কাছে প্রার্থনা- যারা গরিবের আমানতের খিয়ানত করে তাদের কঠোর শাস্তি দাও, যেন তারা টাকার আকার ভুলে যায়। কত প্রকারের নোট হয়, তা-ও ভুলে যায়। তাদের লোভের জিবটাকে ছোট করে দাও। তাদের লোভের হাতের আকার ক্ষুদ্র করে দাও, যেন তাদের লোভ ছুঁতে না পারে চালের মূল্য, ডালের মূল্য। তাদের ক্ষুদ্রকায় মানুষ করে বুঝতে দাও যে, কীভাবে জীবনের ফূল ফোটাতে পরিশ্রম করতে হয়।অন্যের অধিকারে থাবা দিয়ে অন্যায়ভাবে ভোগদখল জীবনের ধর্ম নয়। কতিপয় মানুষের দূর্নীতির হাতে বিপুল জনগোষ্ঠীকে জিম্মি করে দিওনা।
হে আমাদের পালনকর্তা, সকল বঞ্চনার অবসান ঘটাও। বঞ্চিতদের বেদনাকে নিজের বেদনায় পরিণত করার শক্তি দাও। করোনা ভাইরাস আসমানে উঠিয়ে নিয়ে আমাদের সব জনগোষ্ঠীর মানুষকে এক হয়ে নব উদ্যমে ফসল উৎপাদন করার, কল-কারখানায়, অফিস আদালতে কাজ করার, বনভূমি রক্ষা করার, নদী রক্ষা করার, তোমার সৃষ্টির যা কিছু মহৎ- সুন্দর, তাকে আহ্বান করে মানুষ ও জীববৈচিত্রে্র সমন্বয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ, এই বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে সুন্দর করার শক্তি দাও।
হে বিধাতা, সব ধর্মের সব মানুষের জন্য তুমি এই ভূখন্ডকে নিরাপদ করে দাও,যেন সবাই সবার ধর্ম নিশ্চিন্তে পালনের মাধ্যমে তোমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে।
হে আল্লাহ্, এই মহাদূর্যোগ থেকে আমাদের তুমি রক্ষা কর। আমাদের প্রার্থনায় তুমি সাড়া দাও, সাড়া দাও, সাড়া দাও.....আমিন।
আহ্ম্মেদ আলী রিপন
বড় কঠিন দুঃসময়ের মুখোমুখি সমগ্র মানবজাতি। "কোভিড- ১৯" বা করোনা ভাইরাস সমগ্র পৃথিবীর চিরচেনা চিত্রটি পাল্টে দিয়েছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের আক্রমন মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে সমগ্র বিশ্ব। এই প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিষেধক আবিস্কার করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হননি। বিশ্ব অর্থনীতি বড় বিপর্যয়ের মুখে। সমগ্র বিশ্ব ইতিপূর্বে এমন ভয়ানক নীরব শত্রুর মুখোমুখি হয়েছিল কিনা আমার জানা নাই।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশসমূহ এই ভাইরাস মোকাবেলা করতে গিয়ে যেখানে নাস্তানাবুদ হচ্ছে, সেখানে আমাদের প্রিয় এই ক্ষুদ্র ও দরিদ্র বাংলাদেশের অসহায় মানুষেরা কি দুরাবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন তা পাঠক মাত্রই অনুমান করতে পারছেন। প্রতিদিন বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে শত শত মানুষ। মৃত্যুর কাতার প্রতিদিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে! অথচ এই মহাদূর্যোগের সময়েও কিছু প্রতিষ্ঠান ও মানুষ চিকিৎসার নামে অসহায় মানুষের পকেট কেটে বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করে চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী মানুষকে মহাবিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে মানুষ স্বেচ্ছায় ঘরে বন্দিজীবন বেছে নিয়েছে। শিল্প ও কল- কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ প্রায় সব অফিস- আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। সব জায়গায় চলছে কর্মী ছাঁটাইয়ের মহোৎসব! ঘরে ঘরে চলছে নীরব দূর্ভিক্ষ। অসহায় অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজন। এই অসহায় মানুষদের জন্য কি কারোর কিছুই করার নাই? হ্যা এটাই সত্যি, এদের জন্য কারোর কিছুই করার নাই! করোনা ভাইরাস মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে প্রকৃতির কাছে মানুষ কতটা ক্ষুদ্র ও দূর্বল। এই মহাদূর্যোগ থেকে বাঁচতে এক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ খোলা নাই। এই নীরব শত্রু এবং অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর কাছে করি এবং বলি------
হে আল্লাহ্ , তুমি আমাদের এবং সমগ্র বিশ্বের অসংখ্য অসহায় মানুষদের করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা কর।
হে মহাপরাক্রমশালী , তোমার কাছে আমাদের প্রার্থনা- ধুয়ে দাও আমাদের পাপ, ভাসিয়ে নিয়ে যাও তথাকথিত মানবিক বোধের জঞ্জাল। মানুষের মাঝে জাগিয়ে দাও বেঁচে থাকার অন্যতম বোধ।
হে মহাক্ষমতাধর , তোমার কাছে আমাদের প্রার্থনা- আমাদের তুমি ঐক্যবদ্ধ করে দাও। বৈশাখী ঝড়ে অনৈক্যের জায়গাটিকে উৎখাত করে ঐক্যের জায়গাটি সমান করে দাও। জাতির জীবনে জমে যাওয়া অন্যায়, অপরাধ,লোভ, অহন্কার, দূর্নীতি সহ সব আবর্জনা দূর করতে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর জন্য তুমি শক্তি দাও।
হে আল্লাহ্ , করোনা ভাইরাস ধ্বংস করে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার পরিবেশ তুমি তৈরি করে দাও। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়, যেন মনুষ্যত্ব বিকাশের অনুশীলনের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়ে আমাদের আগামী প্রজন্ম যেন তোমার সৃষ্টির প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে তোমার পৃথিবীকে নতুন করে নির্মাণ করার জন্য প্রতিঙ্গাদীপ্ত হয়। আমাদের সন্তানদের নিজেদের হৃদয় খুলে শিক্ষার নির্যাসে আলোকিত মানুষ হবার শক্তি দাও।
হে আমাদের রব, তোমার কাছে প্রার্থনা- যারা গরিবের আমানতের খিয়ানত করে তাদের কঠোর শাস্তি দাও, যেন তারা টাকার আকার ভুলে যায়। কত প্রকারের নোট হয়, তা-ও ভুলে যায়। তাদের লোভের জিবটাকে ছোট করে দাও। তাদের লোভের হাতের আকার ক্ষুদ্র করে দাও, যেন তাদের লোভ ছুঁতে না পারে চালের মূল্য, ডালের মূল্য। তাদের ক্ষুদ্রকায় মানুষ করে বুঝতে দাও যে, কীভাবে জীবনের ফূল ফোটাতে পরিশ্রম করতে হয়।অন্যের অধিকারে থাবা দিয়ে অন্যায়ভাবে ভোগদখল জীবনের ধর্ম নয়। কতিপয় মানুষের দূর্নীতির হাতে বিপুল জনগোষ্ঠীকে জিম্মি করে দিওনা।
হে আমাদের পালনকর্তা, সকল বঞ্চনার অবসান ঘটাও। বঞ্চিতদের বেদনাকে নিজের বেদনায় পরিণত করার শক্তি দাও। করোনা ভাইরাস আসমানে উঠিয়ে নিয়ে আমাদের সব জনগোষ্ঠীর মানুষকে এক হয়ে নব উদ্যমে ফসল উৎপাদন করার, কল-কারখানায়, অফিস আদালতে কাজ করার, বনভূমি রক্ষা করার, নদী রক্ষা করার, তোমার সৃষ্টির যা কিছু মহৎ- সুন্দর, তাকে আহ্বান করে মানুষ ও জীববৈচিত্রে্র সমন্বয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ, এই বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে সুন্দর করার শক্তি দাও।
হে বিধাতা, সব ধর্মের সব মানুষের জন্য তুমি এই ভূখন্ডকে নিরাপদ করে দাও,যেন সবাই সবার ধর্ম নিশ্চিন্তে পালনের মাধ্যমে তোমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে।
হে আল্লাহ্, এই মহাদূর্যোগ থেকে আমাদের তুমি রক্ষা কর। আমাদের প্রার্থনায় তুমি সাড়া দাও, সাড়া দাও, সাড়া দাও.....আমিন।
Comments
Post a Comment